দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর জন্য বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেডের দায়িত্ব পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা এতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে। এসব মিল চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা। তিন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে বিনিয়োগ করা হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এ মিল চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং বার্ষিক টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উৎপাদন বন্ধ থাকা বিজেএমসির ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মিলে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
