অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে আলোচনাই বেশি হলেও ব্যাটিং বিভাগে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশাবাদী হওয়ার মতো। ২০২৫ সাল থেকে খেলা টেস্টগুলোর পরিসংখ্যানে নাজমুল হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও লিটন দাসের ব্যাটে ধারাবাহিকতার প্রমাণ মিলছে। আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে এই ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংসই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে নেই পেসার নাহিদ রানা। এ ছাড়া শরীফুল ইসলামের চোট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ফলে সফরের আগে বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি কথা হয়েছে। তবে এর আড়ালে দলের ব্যাটিং বিভাগেও রয়েছে ইতিবাচক কিছু পরিসংখ্যান।
সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি। দুই ইনিংসে দলটি ১৪০ ও ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৮৫ রানে ম্যাচ হারে। অস্ট্রেলিয়ায় তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে মাত্র ৫৪ রানে।
তবে সাম্প্রতিক এক-দুই ম্যাচের ফল দিয়ে ব্যাটসম্যানদের সামগ্রিক ফর্ম বিচার করা কঠিন। ২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশের খেলা ৯টি টেস্টের হিসাব দেখলে মূল ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের অন্য চিত্র পাওয়া যায়।
এই নয় টেস্টের মধ্যে তিনজন ব্যাটসম্যানই প্রতিটি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁদের দুজনের ব্যাটিং গড় ৫০-এর বেশি। তাঁরা হলেন নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম।
নয় টেস্টের ১৬ ইনিংসে নাজমুল করেছেন ৮১৩ রান। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৪.২। এই সময়ে চারটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে।
নাজমুলের চার শতকের দুটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং একটি করে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। গত মে মাসে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, তবে ৮৭ রানে আউট হন।
মুশফিকও এই সময়ে ব্যাট হাতে প্রায় একই রকম ধারাবাহিক। ১৬ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৭৯৯ রান, গড় ৫৩.২৬। তাঁর সেঞ্চুরি তিনটি এবং ফিফটি দুটি। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শতক পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
নাজমুল ও মুশফিকের সঙ্গে ২০২৫ সাল থেকে নয়টি টেস্ট খেলেছেন মুমিনুল হক। ১৬ ইনিংসে তাঁর রান ৭১৯, ব্যাটিং গড় ৪৪.৯৩। এ সময়ে সাতটি ফিফটি করেছেন তিনি।
মুমিনুলের সাতটি ফিফটির মধ্যে তিনটিই ৮০ রানের বেশি। তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ৯১। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ফিফটি করেছিলেন তিনি।
উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাস অবশ্য নয়টি নয়, এ সময়ে খেলেছেন ছয়টি টেস্ট। ১০ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৫৬৮ রান। দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটির পাশাপাশি তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৬.৮—এই তালিকায় যা সর্বোচ্চ। পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল দায়িত্ব নাজমুল, মুশফিক, মুমিনুল ও লিটনের ওপর থাকলেও ওপেনার সাদমান ইসলামকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
২০২৫ সাল থেকে আটটি টেস্ট খেলেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ১৪ ইনিংসে তাঁর রান ৫২৯, ব্যাটিং গড় ৩৭.৭৮। মূল ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে সাদমানও যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের ব্যাটিং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
জয়ের হিসাব অবশ্য এখনই সামনে না এনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই বড় প্রশ্ন। আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে নাজমুল, মুশফিক, মুমিনুল ও লিটনের অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্মের ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সাফল্য।
