রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রার্থিতা অনুমোদন করেন। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর পরপরই মির্জা ফখরুলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময়ে দল পরিচালনায় ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ছয়বার কারাগারে যান। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দলের নেতৃত্বে থাকার কারণে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও প্রার্থী দিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী থাকলে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০।
এই সংসদীয় হিসাব অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নির্বাচিত হলে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।
