ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় গ্রেপ্তার ৯ আসামিকে রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানির জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে সকালে মামলায় গ্রেপ্তার ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই আসামিসহ মোট ১১ জনকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন আদালতকে জানান, শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ করলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ২০ আসামির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া গেছে; বাকি আসামিদের বিষয়ে প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসানুল হক ইনু এবং অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাককে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি এবং নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিলের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।
শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
মামলার আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।
অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন এবং তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান।
এ ছাড়া তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলীও আসামির তালিকায় রয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন এবং পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
