অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের আগে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম তাসকিন আহমেদ। ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট, দ্বিতীয়টি ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য দুই ম্যাচের এই সিরিজে তাসকিনের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বছরের শুরুতেই তাসকিনকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। বিপিএলের সময় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনের পর তাসকিনকে দেখে নাজমুল বলেছিলেন, ‘সারা বছর আর কী করবেন জানি না, কিন্তু এ বছর চারটা টেস্টে খেলতেই হবে।’ অধিনায়কের প্রত্যাশা ছিল, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার টেস্টেই তাসকিনকে একাদশে পাওয়া যাবে।
তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি। ৮ আগস্ট শেষ হওয়া তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় দলটি। ফলে সিরিজ শুরুর আগে ব্যাটিং নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হলেও বোলিংয়ে কিছুটা ইতিবাচক দিক ছিল।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। সদ্য ইংলিশ কাউন্টি খেলে ফেরা এই পেসার নেন ৪ উইকেট। তাসকিনের শিকার ২ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচের হারকে অবশ্য নেতিবাচকভাবে দেখছেন না তাসকিন। গতকাল ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হেরে যাওয়ার অনুভূতি অবশ্যই সুখকর কিছু নয়। তবে ক্রিকেটে এমন হতেই পারে। আমরা এখানকার কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। হারলেও ভালো প্রস্তুতি হয়েছে।’
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট সফর। সব মিলিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পেসারদের জন্য সহায়ক কন্ডিশনের কারণে সফরটি তাসকিনসহ বাংলাদেশের পেস আক্রমণের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগকে তাসকিনও বিশেষ মর্যাদার হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে সত্যি সম্মানিত বোধ করছি। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলা আমাদের সব ক্রিকেটারের জন্য ভীষণ গর্বের।’
বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের সাফল্যও কিছুটা আত্মবিশ্বাসের উৎস হতে পারে। দুই দলের ছয় টেস্টের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ হেরেছে পাঁচটিতে। একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে, যেখানে স্পিনসহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
গত জুনে মিরপুরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সেই সাফল্যও তাসকিনদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে দারুণ একটা সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছিলাম, তাদের বিপক্ষে খেলতে আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে সেটা।’
চোটের সঙ্গে লড়াই করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তাসকিন। একপর্যায়ে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে চার টেস্টে ১৯ উইকেট নিয়ে সাদা পোশাকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। গত বছর অবশ্য চোটের কারণে কোনো টেস্ট খেলতে পারেননি।
চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছেন তাসকিন। গত মে মাসে মিরপুর ও সিলেটে অনুষ্ঠিত সেই দুই ম্যাচে তাঁর উইকেট ৬টি।
অভিজ্ঞতার কারণে শুধু নিজের বোলিং নয়, দলের অন্য পেসারদেরও সহযোগিতা করছেন তাসকিন। নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেনদের পাশে থেকে পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকাতেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নাহিদ রানা চোটের কারণে নেই। ফলে তাসকিনের ওপর প্রত্যাশার চাপ আরও বাড়ছে। নতুন বল হাতে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া এবং গতি ও বাউন্স দিয়ে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখা—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অবশ্য পেস সহায়ক বিদেশি কন্ডিশনে তাসকিনের পরিসংখ্যান খুব উজ্জ্বল নয়। নিউজিল্যান্ডে চার টেস্টে তাঁর উইকেট ৫টি, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টে পেয়েছেন ২ উইকেট। তবে ওই ম্যাচগুলো প্রায় চার বছর আগের।
এবার অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেকে নতুন করে প্রমাণের সুযোগ তাসকিনের সামনে। ডারউইনে ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টেই দেখা যাবে, বাংলাদেশের পেস আক্রমণের এই অভিজ্ঞ নেতা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কতটা কার্যকর হতে পারেন।
