ঢাকা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আউশ ধানের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস এবং হেক্টরপ্রতি ফলন কমে যাওয়াকে এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আউশ মৌসুমে কৃষকরা প্রায় ২৭ লাখ টন ধান উৎপাদন করেছেন। আগের অর্থবছরে এ উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৯০ হাজার টন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আউশ ধানের গড় ফলন দাঁড়িয়েছে হেক্টরপ্রতি ২ দশমিক ৮৬৫ টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।
একই সময়ে আউশ চাষের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণও কমেছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে, যেখানে আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ আবাদি এলাকা প্রায় ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে।
বিবিএসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিক লাভজনক মৌসুমি ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন অনেক কৃষক। ফলে ধীরে ধীরে আউশ চাষের জমি কমে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক উৎপাদনের ওপর।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আউশ ধান দেশের মোট বার্ষিক ধান উৎপাদনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ হলেও খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উৎপাদন ও আবাদি এলাকা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে ভবিষ্যতে এ খাতে নতুন করে নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে দেশের মোট ধান উৎপাদনের ১০ শতাংশেরও কম আসে আউশ মৌসুম থেকে। তবে কৃষি বৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণে আউশ চাষের প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
