ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামের সিনথেটিক তন্তুর ব্যাপক ব্যবহার ও সহজলভ্যতার কারণে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্য ক্রমেই প্রতিযোগিতার চাপে পড়ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাটখাতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কাঠামোগত ও বাজারসংক্রান্ত সমস্যার কারণে রপ্তানি সক্ষমতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারে কম মূল্যের কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের পাটপণ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এছাড়া অধিকাংশ পাটকলের পুরোনো প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারের ঘাটতি, দুর্বল ব্র্যান্ডিং এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতাও খাতটির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তবে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারার মাধ্যমে ২০টি মিল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১৪টি পাটকল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আরও ৬টি পাটকল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, মান নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর ব্র্যান্ডিং এবং বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আরও জোর দিতে হবে।
