ঢাকা: রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোড়নের মধ্যে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক পদত্যাগ করেছেন এবং হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা অস্বীকার করেছে আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ।
গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত কর্মীদের অবহেলা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সরকার। ১১ জুন আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানায়, নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন প্রফেসর জামালুন্নেসা।
সরকারের অভিযোগ ও আদ-দ্বীনের জবাব
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “নবজাতকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ছিল না। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার অভাব, অক্সিজেন সঞ্চালনের ঘাটতি এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অসতর্কতায় রোগীদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে।” তিনি আরও বলেন, “কেউ আইন-কানুন উপেক্ষা করে দায়মুক্তি পাবে না।”
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ তাঁকে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “আমি কাউকে টাকা দিতে ছুটব কেন? এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রমাণ দিতে বলুন।”
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। কোনো পোস্টমর্টেম হয়নি এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
সংস্কারমূলক পদক্ষেপ
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের সুপারিশ অনুসারে তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা জোরদার, চিকিৎসা প্রোটোকল পর্যালোচনা এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। নবজাতক ওয়ার্ড সিলগালা করে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে এবং হাসপাতাল চত্বরের বেকারি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞসহ প্রকৌশলীরা ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ
এক নবজাতকের বাবা রমনা থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা করেছেন। আদ-দ্বীন ছয় পরিবারকে মোট ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির। তবে সরকার বলছে, বিষয়টি শুধু ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই শাস্তি দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালের জন্য সতর্কবার্তা হবে।”
ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
