ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের একটি অংশ বিক্রির বাতিল হওয়া পরিকল্পনা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড ফুটবল জানায়, ফিফার কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসন নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।
সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিকে ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবেও দেখছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল।
ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। চলতি সপ্তাহেই ইউরোপের উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন—এএফসি—এক যৌথ খোলাচিঠিতে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তোলে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় পুনর্নির্বাচনের আগে এসব শক্তিশালী কনফেডারেশন ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চায়।
এর মধ্যেই ফিফার সদস্যদের মধ্যে সর্বশেষ হিসেবে নিউজিল্যান্ড ফুটবল ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করল। এর আগে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনও প্রকাশ্যে তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল।
বুধবার আঞ্চলিক সংস্থা ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন—ওএফসি—এর বৈঠকের পর নিউজিল্যান্ড ফুটবল তাদের অবস্থান জানায়। তবে ওএফসি সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেনি। বিশ্বকাপের বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেয়।
ইনফান্তিনো ও ফিফাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এসব সমালোচনার বিপরীতে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থনও প্রকাশ্যে আসছে।
বৃহস্পতিবার ছয়টি আরব দেশের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানেরা ফিফা সভাপতির প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ ও আস্থা জানান। ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম যৌথ আয়োজক মরক্কোর পাশাপাশি কাতার, মিসর, মৌরিতানিয়া, লেবানন ও সুদানের ফুটবল কর্তারা ইনফান্তিনোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
ফলে একদিকে উয়েফা, কনক্যাকাফ, এএফসি ও নিউজিল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর সমালোচনা এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েকটি দেশের সমর্থনও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ইনফান্তিনো। এ পরিস্থিতিতে আগামী মার্চের পুনর্নির্বাচনকে সামনে রেখে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
