গোল ঠেকানোই গোলকিপারের প্রধান দায়িত্ব। তবে সেই গোলরক্ষকই যখন প্রতিপক্ষের জালে এক ম্যাচে দুইবার বল পাঠান, তখন তা নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা। নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ ফুটবল লিগ এরেডিভিসিতে এমনই কীর্তি গড়েছেন টেলস্টারের গোলকিপার রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র।
ক্যামবুরের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে দলের হয়ে দুই গোলই করেন ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। তার জোড়া গোলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে টেলস্টার।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপের মধ্যে ছিল টেলস্টার। ২২ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নকভি থোরিসন। ফলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের।
বিরতির পর মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ক্যামবুর। তখন টেলস্টারের হার প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।
এরপর আসে কোম্যান জুনিয়রের পালা। দ্বিতীয় গোল হজমের মাত্র তিন মিনিট পর পেনাল্টি পায় টেলস্টার। গোলকিপার কোম্যান নিজেই এগিয়ে এসে ১২ গজ দূর থেকে সফলভাবে পেনাল্টি নেন। এতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে টেলস্টারের।
নাটকীয়তা অবশ্য তখনো শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১১ মিনিটে আবার পেনাল্টি পায় টেলস্টার। এবারও স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন কোম্যান জুনিয়র। দ্বিতীয়বারও বল জালে পাঠিয়ে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান তিনি।
এই ম্যাচের জোড়া গোলের পর ২০২৬ সালে টেলস্টারের হয়ে করা কোম্যান জুনিয়রের ক্যারিয়ারের সব গোলই এসেছে একই বছরে।
চাপের মুহূর্তে গোল করার অভিজ্ঞতাও তার আছে। গত মৌসুমের শেষ দিনে ভলেন্ডামের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। ওই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল টেলস্টার, যা এরেডিভিসিতে দলটির টিকে থাকা নিশ্চিত করে।
রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র ডাচ ফুটবল কিংবদন্তি ও নেদারল্যান্ডসের সাবেক কোচ রোনাল্ড কোম্যানের ছেলে। বাবা ছিলেন ডিফেন্ডার, কিন্তু গোল করার দক্ষতার জন্যও তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
বার্সেলোনা, পিএসভি, আয়াক্স ও ফেইনুর্দের হয়ে খেলা রোনাল্ড কোম্যান ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ২৫৪ গোল করেছেন। এর মধ্যে ১১৫টি ছিল পেনাল্টি থেকে। ক্যারিয়ারে তিনি ১৬টি পেনাল্টি মিসও করেছেন।
খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়েও সফল হন রোনাল্ড কোম্যান। সাউদাম্পটন, এভারটন ও বার্সেলোনার দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ছেলে কোম্যান জুনিয়র বেছে নিয়েছেন গোলরক্ষকের পথ।
কোম্যান জুনিয়রের জন্ম বার্সেলোনায়, যখন তার বাবা ক্যাম্প ন্যুতে খেলতেন। নেদারল্যান্ডসে আলমেরে সিটির হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে খেলেছেন টপ ওসেতে।
২০২১ সালের গ্রীষ্মে টেলস্টারে যোগ দেন কোম্যান জুনিয়র। ২০২৫ সালে প্লে-অফের মাধ্যমে দলটির উত্তরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
রোববার ক্যামবুরের সঙ্গে ড্রয়ের পর চার ম্যাচে টেলস্টারের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান ১৩ নম্বরে। ৪৭ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরা দলটি এখনো লিগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
