চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক রূপক দে মাত্র ২০ শতক জমিতে ওল কচু চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী খরণদ্বীপ বিলের জমিতে ওল কচু চাষ শুরু করেন রূপক। ২০২২ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে প্রথমবার ১৪ শতক জমিতে তিনি এ ফসলের আবাদ করেন। শুরুতে চাষ সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ার পর তিনি ওল কচু চাষে সম্ভাবনা দেখতে পান।
রূপক জানান, তিনি রাঙামাটির ঘাগড়া বাজার থেকে ওল কচুর বীজ সংগ্রহ করেন। সেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর লোকজন ঝুড়িতে করে বীজ বিক্রি করতে আসেন। প্রতি ঝুড়ি বীজের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা। চলতি মৌসুমে তিনি ১০ ঝাঁকি বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেছেন।
সাধারণত একটি বীজের ওজন ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম। প্রতিটি মাদায় একটি করে বীজ রোপণ করা হয়। বীজ রোপণ ও পরিচর্যায় প্রতিটির জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ হয়। পরে জমি থেকেই প্রতিটি ওল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করা যায়।
রূপকের হিসাবে, ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বীজ থেকে প্রায় ২ কেজি, ৩০০ গ্রাম বীজ থেকে প্রায় ৫ কেজি এবং ১ কেজি ওজনের বীজ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৮ কেজি ওল পাওয়া যায়। চৈত্র মাসে বীজ রোপণ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর ভাদ্র মাসে ফসল বিক্রির উপযোগী হয়। অবশ্য পরিপক্বতার প্রায় এক মাস আগেও ওল বিক্রি শুরু করা সম্ভব।
চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত প্রায় অর্থ লাখ টাকার ওল কচু বিক্রি করেছেন রূপক। সব ফসল বিক্রি শেষে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ওল কচুর পাইকারি দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পরে ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে তা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
রূপক বলেন, ওল কচু চাষে শুরুতে কিছুটা বাড়তি শ্রম দিতে হয়। চৈত্র মাসে তাপমাত্রা বেশি থাকায় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। এতে বীজ ও মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকে। মাসে তিন থেকে চারবার সেচ দিতে হয়। প্রতিবার পানি দেওয়ার পেছনে তাঁর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়।
তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আরও তিন-চারজন কৃষক এবার ওল কচু চাষ শুরু করেছেন বলে জানান রূপক।
বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম জানান, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় দুই হেক্টর জমিতে ওল কচুর চাষ হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে উপজেলায় কন্দাল ফসলের আবাদ শুরু হয়। সে সময় প্রায় আট হেক্টর জমিতে কন্দাল ফসলের চাষ হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় দুই হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এক হেক্টর জমিতে ওল কচু চাষ করে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এক হেক্টর জমি থেকে কৃষকের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।
তাঁর মতে, ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে জমি এবং পাহাড়ের ঢালে ওল কচুর ফলন ভালো হয়। এসব এলাকায় কৃষকদের এ ফসল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
