কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন করে ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। নতুন সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ক্রিয়েটররা কনটেন্টের সাফল্য বিশ্লেষণ, নতুন কনটেন্টের ধারণা এবং দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল সম্পর্কে ব্যক্তিগত পরামর্শ পাবেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন ক্রিয়েটর স্টুডিওর অন্যতম প্রধান ফিচার হবে ‘ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’। এটি একজন ক্রিয়েটরের কনটেন্ট, দর্শক, এনগেজমেন্ট ও সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেবে।
কোন কনটেন্ট ভালো করেছে, কোনো রিল বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানোর কারণ কী এবং সময়ের সঙ্গে দর্শকদের আচরণে কী পরিবর্তন এসেছে—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরও এআই সহকারীর কাছ থেকে জানতে পারবেন ক্রিয়েটররা।
শুধু কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ নয়, নতুন কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট। ফেসবুকে কোন বিষয় বা কনটেন্টের ধরন জনপ্রিয় হচ্ছে, কী ধরনের ভিডিও বা পোস্ট তৈরি করা যেতে পারে এবং দর্শকদের আকৃষ্ট করতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব বিষয়ে ব্যক্তিগত পরামর্শ দেবে এআই।
ক্রিয়েটরের লক্ষ্য অনুযায়ীও পরামর্শ সাজানো হবে। দর্শকসংখ্যা বাড়ানো, এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি কিংবা আয় বাড়ানো—যে লক্ষ্যই থাকুক, সে অনুযায়ী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
নতুন ক্রিয়েটর স্টুডিওতে এআইভিত্তিক কমেন্ট ব্যবস্থাপনার সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, ক্রিয়েটরের নিজস্ব যোগাযোগের ধরন অনুসরণ করে মন্তব্যের উত্তরের খসড়াও তৈরি করতে পারবে টুলটি।
এর ফলে বিপুলসংখ্যক মন্তব্যের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানানো সহজ হবে।
মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রিয়েটর স্টুডিওর উদ্দেশ্য কেবল তথ্য বা পরিসংখ্যান দেখানো নয়। বরং একজন ক্রিয়েটরকে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চিহ্নিত করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়তা করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ফেসবুকের ক্রিয়েটরদের জন্য এআইনির্ভর বিভিন্ন সুবিধা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ভারতে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও দেশে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।
মেটার এই উদ্যোগকে ফেসবুকের ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নির্দিষ্ট কাজ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী ফেসবুকে আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে ফেসবুক গ্রুপের জন্য ‘ফোরাম’-এর মতো নতুন একটি অ্যাপও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে মেটা।
