মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের মানুষকে শান্তি, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর আয়োজিত জনসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য আগামী দিনে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ কয়েকটি কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছে, সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে। বিএনপি জনগণের সঙ্গে ছিল, বর্তমানে জনগণের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের জন্যই কাজ করবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের বিভিন্ন অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি জানান, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ। এতে তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অন্যদিকে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তারা এর সুযোগ নেয়।
দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করবে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, জনগণকে সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন শান্তি চায়। তারা আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, সন্তানদের জন্য শিক্ষা এবং পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চায়। এসব লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এর আগে পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে জনসমাবেশের মঞ্চে উঠলে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
