যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযানের জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও তীব্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত এ হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত আরও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হামলাকে ‘চুক্তি লঙ্ঘনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাহিনীটির দাবি, এ হামলার মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে।
তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবারও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, এসব অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ। তবে তেহরান এটিকে আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত আটজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। হামলার প্রধান কেন্দ্র ছিল পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সরাসরি হামলার আওতায় আসলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও কূটনৈতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বর্তমান সংকট আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও গভীর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় নাকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হয়—সেদিকেই।
