জনপ্রিয়তার দাবি নিয়ে বিতর্ক, অনুসারীর সংখ্যায় ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে টেইলর সুইফট
Image Credit:https://americabangla.com/
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে টিকটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে দাবি করলেও প্রকাশ্য পরিসংখ্যান ও প্ল্যাটফর্মের তথ্য সেই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি টিকটকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন এবং জনপ্রিয়তার বিচারে সংগীত তারকা টেইলর সুইফটের চেয়েও এগিয়ে আছেন। তবে পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তাঁর এই বক্তব্য মূলত বিশ্বনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার নিরিখে প্রযোজ্য, সামগ্রিক টিকটক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রের ভিত্তিতে ট্রাম্প এ দাবি করেন। তবে ওই তথ্যচিত্রে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা ও সবচেয়ে বেশি দেখা রাজনৈতিক নেতাদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, টিকটকের সব ব্যবহারকারী বা বিনোদনজগতের তারকাদের সঙ্গে কোনো তুলনা করা হয়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প টিকটকের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, তিনি প্ল্যাটফর্মটিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। বক্তব্যের সময় তিনি টিকটককে রসিকতার ছলে ‘টিক ট্যাক’ বলেও উল্লেখ করেন।
তবে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যচিত্রে দেখা যায়, সেখানে ট্রাম্পকে কেবল ‘সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা ও দেখা বিশ্বনেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকাটি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
ফলে টেইলর সুইফট, মি.বিস্ট বা অন্যান্য বৈশ্বিক বিনোদন তারকাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো তুলনা সেখানে করা হয়নি।
ট্রাম্পের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট প্রায় ৪২৫ বিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংখ্যা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ভিডিওর দর্শকসংখ্যা নয়।
বরং এতে ট্রাম্প-সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগ, সমর্থনমূলক কনটেন্ট, সংবাদভিত্তিক ভিডিও, সমালোচনামূলক পোস্টসহ বিভিন্ন ব্যবহারকারীর তৈরি কনটেন্টের মোট ভিউ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাই এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার সূচক হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, টিকটকে ট্রাম্পের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ। অন্যদিকে মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের অনুসারী প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ।
অর্থাৎ অনুসারীর সংখ্যার বিচারে সুইফট ট্রাম্পের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে রয়েছেন।
এ ছাড়া টিকটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের তালিকায় এখনও শীর্ষে আছেন ইতালিয়ান-বংশোদ্ভূত কনটেন্ট ক্রিয়েটর খাবি লেইম। তাঁর অনুসারী সংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি। তালিকায় আরও রয়েছেন চার্লি ডি’অ্যামেলিও এবং মি.বিস্টের মতো জনপ্রিয় নির্মাতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প টিকটকের চীনা মালিকানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি প্ল্যাটফর্মটির ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তবে তাঁর জনপ্রিয়তা সংক্রান্ত মন্তব্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ডিজিটাল মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বনেতাদের মধ্যে ট্রাম্পের টিকটক উপস্থিতি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি উল্লেখযোগ্য দর্শক ও অনুসারী অর্জন করেছেন।
তবে সামগ্রিকভাবে টিকটকের সব ব্যবহারকারী, শিল্পী বা কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে তাঁকে ‘এক নম্বর’ বলা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। কারণ প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ অনুসারী তালিকায় তাঁর অবস্থান অনেক নিচে।
টিকটকে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় হলেও, সামগ্রিক টিকটক ব্যবহারকারী বা বৈশ্বিক সেলিব্রিটিদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
