গোল করে উচ্ছ্বাসে সীমানার বিজ্ঞাপন-বোর্ড টপকে দর্শকদের দিকে ছুটেছিলেন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগের ক্লাব করিতিবার সেন্টারব্যাক জেসি মারানহাও। কিন্তু বোর্ডের ওপাশে থাকা প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সুড়ঙ্গে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। বিরতির পর মাঠ ছাড়তে হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর দলের জয় এসেছে ২-১ গোলে। তবে সবচেয়ে হতাশার বিষয়, ভিএআরের সিদ্ধান্তে পরে বাতিল হয়ে যায় তাঁর করা সেই গোল।
পরশু রাতে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচে করিতিবার হয়ে শুরু থেকেই খেলছিলেন মারানহাও। ম্যাচের ৪১ মিনিটে হেড থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেন্টারব্যাক হিসেবে গোল পাওয়ার আনন্দেই সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপনের বদলে ছুটে যান দর্শকদের দিকে।
সীমানার বিজ্ঞাপন-বোর্ড পেরোনোর পরই ঘটে বিপত্তি। দর্শকসারির দিকে যাওয়ার পথ ভেবে এগোলেও সেখানে ছিল প্রতিপক্ষ দলের ড্রেসিংরুমের প্রবেশপথের একটি সুড়ঙ্গ। সেটির মধ্যে পড়ে যান মারানহাও। পরে তাঁকে টেনে ওপরে তোলা হয়। তবে পড়ে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পরপরই তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নিতে হয়।
এরপর আসে আরও বড় ধাক্কা। ভিএআর পর্যালোচনার পর তাঁর গোলটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে যে গোলের আনন্দে উদ্যাপন করতে গিয়ে চোট পেলেন, সেটির কোনো হিসাবই শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে থাকেনি। অবশ্য করিতিবা ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ায় দলের জয়ই কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নিজের চোটের বিষয়ে মারানহাও জানান, পায়ে সামান্য টান লেগেছে, তবে তিনি ভালো আছেন। গোল উদ্যাপনের এমন পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো, সেটির ব্যাখ্যাও দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেন্টারব্যাকদের গোল করার সুযোগ খুব বেশি আসে না। তাই গোল পেয়ে গেলে উত্তেজনায় নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
করিতিবার কোতো পেরেইরা স্টেডিয়ামের ওই সুড়ঙ্গ নিয়ে অবশ্য এটাই প্রথম এমন ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে সাও পাওলোর বিপক্ষে করিতিবার ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও একই জায়গায় পড়ে গিয়েছিলেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড জোয়েল।
এবার মারানহাওয়ের ঘটনা গোলের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষ করে গোলটি পরে বাতিল হয়ে যাওয়ায়।
