দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। বর্ষার পানিকে কাজে লাগিয়ে চাষ করা এ ধানে প্রতি বিঘায় গড়ে ২২ থেকে ২৩ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে আউশ চাষে লাভের সম্ভাবনাও দেখছেন তাঁরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাটে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমির বড় একটি অংশে ব্রি ধান-৯৮ চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলন, বাজারে চাহিদা এবং অন্যান্য মৌসুমি ধানের তুলনায় কম খরচে উৎপাদন করা যায় বলে কৃষকদের মধ্যে এ জাতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
কৃষকেরা জানান, এবার প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৩ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ফলন বোরো মৌসুমের আধুনিক জাতের ধানের কাছাকাছি। উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি মুনাফার পরিমাণও তুলনামূলক ভালো হচ্ছে।
ঘোড়াঘাটের মাঠে ধান কাটার সময় কৃষক জাহিদুল ইসলাম ও আব্দুল জব্বার জানান, তাঁরা দুজন পৃথকভাবে তিন বিঘা করে মোট ছয় বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ২৩ মণ করে ফলন পেয়েছেন তাঁরা।
জাহিদুল ইসলাম ও আব্দুল জব্বার বলেন, ফলন ও বাজারদর দুটোই ভালো থাকায় তাঁরা সন্তুষ্ট। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আউশ ধান চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
কৃষকদের ভাষ্য, আউশ কাটার পর একই জমিতে ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৯৩সহ আগাম জাতের ধান আবাদ করা যায়। এরপর রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসল ও শাকসবজি চাষের সুযোগ থাকে। ফলে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, পৌর এলাকার কৃষকেরা আউশ ধানের আধুনিক চাষপদ্ধতি ও বিভিন্ন কলাকৌশল রপ্ত করেছেন। পাখির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নেট ব্যবহারসহ বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়েও তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, আউশ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক, কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্ষার পানি ব্যবহার করে আউশ চাষ করলে সেচের ওপর নির্ভরতা কমে যায়। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারও সম্ভব হয়।
রফিকুজ্জামান আরও বলেন, আউশের আবাদ বাড়লে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনও বাড়বে। এ কারণে ঘোড়াঘাটে কৃষকদের মধ্যে আউশ ধান চাষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
