শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও অধিকার কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিকতা, আধ্যাত্মিক শক্তি ও আধুনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজিবউদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ১৪তম ইয়ুথ সামিট-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘Awaken Yourself: Harmonize Spirituality with Skills to Lead the World’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সকালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সূরা কাহফের ৪৭ থেকে ৪৯ নম্বর আয়াতের ওপর আলোচনা উপস্থাপন করেন ইসলামী স্কলার মাওলানা ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার। উদ্বোধনী পর্বে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সেরা হলেই চলবে না, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি ও আধুনিক স্কিল বা দক্ষতায় বলীয়ান হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আগে নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নীতিহীন মেধাবীরাই সমাজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। তাই দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হলে সর্বপ্রথম ‘সরিষার ভেতরের ভূত’ তাড়াতে হবে।”
শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, “বুক পেতে দিয়ে ছাত্ররা যে স্বাধীনতা ও অধিকার আদায় করেছে, তা কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেয়া যাবে না।” একই সঙ্গে তিনি শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় বৈষম্যহীন ও সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে আজকের এই তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের প্রস্তুত করতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি শতভাগ মনোযোগী হতে হবে।”
তিনি পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সময় অপচয়ের জন্য নয়; বরং জ্ঞান অর্জন ও চরিত্র গঠনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
সমাপনী অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ক্যারিয়ার সেশন বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে নৈতিকতার ভিত্তি শক্ত না হলে সেই সফলতা টেকসই হয় না। তোমাদের মেধা ও শ্রমকে দেশের সেবায় যথাযথভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হলে আমাদের তরুণদের মেধার সাথে নৈতিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে হবে। শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে তোমাদেরকে আগামী দিনের দেশ পরিচালনায় যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।”
দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা ও যোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই। তোমাদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেদের পারদর্শী করে তুলতে হবে।”
দিনব্যাপী সামিটে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, একাডেমিক উন্নয়ন, প্যানেল আলোচনা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, সময় ব্যবস্থাপনা, একবিংশ শতাব্দীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং উম্মাহর উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, এমপি, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির এবং ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্য এবং ঢাকাস্থ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
