বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসার ধরন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সিঙ্গেল এন্ট্রি ও মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সম্পর্কে জানলেও ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট ধরনের সফরের জন্য ডাবল এন্ট্রি ভিসা একটি কার্যকর ও সুবিধাজনক ব্যবস্থা।
ডাবল এন্ট্রি ভিসা (Double Entry Visa) হলো এমন একটি ভিসা, যার মাধ্যমে একজন ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দুইবার কোনো দেশে প্রবেশ করতে পারেন। অর্থাৎ প্রথমবার দেশটিতে প্রবেশ করে বেরিয়ে যাওয়ার পর একই ভিসা ব্যবহার করে আরও একবার প্রবেশের সুযোগ থাকে। তবে দ্বিতীয়বার দেশত্যাগের পর ওই ভিসার প্রবেশাধিকার শেষ হয়ে যায় এবং পুনরায় ভ্রমণের জন্য নতুন ভিসা নিতে হয়।
উদাহরণ হিসেবে, একজন বাংলাদেশি নাগরিক যদি ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া যান, তাহলে তিনি প্রথমবার মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরতে পারবেন। পরে একই ভিসার মেয়াদের মধ্যে দ্বিতীয়বার আবার মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু দ্বিতীয় সফর শেষে দেশত্যাগ করলে তৃতীয়বার আর ওই ভিসা ব্যবহার করা যাবে না।
কারা ডাবল এন্ট্রি ভিসা ব্যবহার করেন?
ইমিগ্রেশন ও ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব ভ্রমণকারীর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুইবার একই দেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য ডাবল এন্ট্রি ভিসা উপযোগী।সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের ভিসা ব্যবহৃত হয়:
- ব্যবসায়িক বৈঠক বা বাণিজ্যিক সফর
- চিকিৎসার জন্য একাধিক ধাপে বিদেশ ভ্রমণ
- পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ
- এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে পুনরায় মূল গন্তব্যে ফেরার পরিকল্পনা
- আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ
সিঙ্গেল, ডাবল ও মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পার্থক্য
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মূলত তিন ধরনের এন্ট্রি ভিসা বেশি প্রচলিত—সিঙ্গেল, ডাবল এবং মাল্টিপল এন্ট্রি।ভারতসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই সাধারণত তিন ধরনের এন্ট্রি ভিসা প্রচলিত।
সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা: একবার প্রবেশের সুযোগ দেয়। দেশ ত্যাগ করার পর ভিসার কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।
ডাবল এন্ট্রি ভিসা: দুইবার প্রবেশের অনুমতি দেয়। প্রথমবার বের হওয়ার পর আরও একবার প্রবেশ করা যায়।
মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা: ভিসার মেয়াদকালে একাধিকবার প্রবেশ ও দেশত্যাগ করা যায়। নিয়মিত ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সবচেয়ে সুবিধাজনক।
কী সুবিধা রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাবল এন্ট্রি ভিসা ভ্রমণকারীদের জন্য সময় ও খরচ উভয়ই কমায়। কারণ দুইবার ভ্রমণের জন্য আলাদা আলাদা ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি ভ্রমণ পরিকল্পনাও তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।এছাড়া যারা স্বল্প সময়ের মধ্যে দুটি আলাদা সফরের পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য এটি একটি অর্থনৈতিক ও কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করে।
মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে কী অবস্থা?
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে সিঙ্গেল ও মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং বৈধ কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ডাবল এন্ট্রি ভিসাও অনুমোদিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ ভ্রমণের আগে ভিসার ধরন, মেয়াদ এবং এন্ট্রির সংখ্যা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। কারণ অনেক ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত না বুঝে সফর পরিকল্পনা করায় পরবর্তীতে জটিলতায় পড়েন। তাই ভিসা পাওয়ার পর এর শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ভারতীয় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী জানা জরুরি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা অনুমোদনের সময় কতটি এন্ট্রি দেওয়া হবে তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই ভিসা হাতে পাওয়ার পর ‘Number of Entries’ বা ‘Entries’ অংশটি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।তারা আরও জানান, ভিসার মেয়াদ এবং এন্ট্রির সংখ্যা দুটি ভিন্ন বিষয়। কোনো ভিসার মেয়াদ দীর্ঘ হলেও যদি সেটি সিঙ্গেল বা ডাবল এন্ট্রি হয়, তাহলে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি প্রবেশ করা সম্ভব হবে না।বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, ভারত সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিসার ধরন সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভিসা সেন্টার বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
