দেশে বর্তমানে স্বপ্নচারী, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শবাদী নেতৃত্বের তীব্র সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তাঁর মতে, দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত রাখবেন—এমন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব এখন স্পষ্ট।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর সংহতি মিলনায়তনে দলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আলী আব্বাসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা শুরুর আগে খন্দকার আলী আব্বাসের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁর স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় সাইফুল হক বলেন, ‘কমরেড খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ, স্বপ্নচারী ও আদর্শবাদী নেতা। বৃহত্তর ঢাকা ও মানিকগঞ্জে তিনি কিংবদন্তিতুল্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।’
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং বামপন্থী রাজনীতির বিকাশে খন্দকার আলী আব্বাসের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, ‘ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনস্তত্ত্ব ও আচরণে এই গণ-অভ্যুত্থান তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পেরেছে বলে মনে হয় না। রাজনীতি এখন দ্রুত অর্থবিত্ত ও ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যেও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে খন্দকার আলী আব্বাসের রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, তাঁর নিঃস্বার্থ ত্যাগ, আদর্শ ও মূল্যবোধ বর্তমান প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান মাসুদ। এ ছাড়া ন্যাপ ভাসানীর মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পলাশ চৌধুরী এবং খন্দকার আলী আব্বাসের ভাগ্নে শহীদুর রহমান রহমত বক্তব্য দেন।
