যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে পঞ্চম নিউইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার ও চেম্বার বার্ষিক বিজনেস এক্সপো ২০২৬। স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে ম্যানহাটনের বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে (বিএমসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলায় যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রদর্শক, চেম্বার প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জ্যাফে এবং ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক কেলি লফলার।
কেলি লফলার বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, ব্যবসা ও সমাজ উন্নয়নে এই জনগোষ্ঠীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি কয়েকজন সফল বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীর অবদানের কথাও বলেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্যের ওপরও গুরুত্ব দেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। পাশাপাশি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মেলা দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
মার্ক জ্যাফে বলেন, গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের চেম্বার বিজনেস এক্সপোর ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বারের সঙ্গে তাদের পাঁচ বছরের যৌথ কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই আয়োজন বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি এবং বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্ষুদ্র ও উদীয়মান ব্যবসার যোগাযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাংলাদেশি-আমেরিকান, বাংলাদেশি, ভারতীয়, চীনা, নেপালি, পাকিস্তানি ও অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। মেলা ও বিভিন্ন সেমিনারে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
মেলার অন্যতম আয়োজন ছিল ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স ফোরামসহ বিভিন্ন সেমিনার ও ব্যবসায়িক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহব্যবস্থা, অনাবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মেলায় ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার দেওয়া হয়। ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য ছয়জনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—সৈয়দ জাকি হোসাইন, লিয়াকত হোসাইন, আবুবকর হানিফ, কাজী হেলাল আহমেদ, গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং ঢাকার প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ড. আরিফুর রহমান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবসায়িক অগ্রগতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
