প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ, বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা ও তদারকিতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতি তৈরি হলেও চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কর্মীরাও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী, চাল এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, সাপের কামড় মোকাবিলা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বন্যার পানি কমে গেলে দ্রুত সড়ক, সেতু এবং রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালু থাকা এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় যোগাযোগ বা মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটেছে, সেখানে দ্রুত সেবা পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন’—এই তিন ধাপের সমন্বিত কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফিরে আসার পথ সুগম করবে।
