টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচাবাজার, কাজীর দেউড়ি বাজার, চকবাজার এবং আশপাশের ভাসমান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনছেন। কেউ এক কেজির বদলে আধা কেজি, আবার কেউ ২৫০ গ্রাম কিনেই বাজার শেষ করছেন।
দুই নম্বর গেট এলাকার কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাজারের সবজিতে হাত দিলেই এখন ১০০ টাকা। কাঁচা মরিচ তো কেনা দায়। সপ্তাহের বাজার করতে এখন আগের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি লাগছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
চকবাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “মাছ-মাংসের দাম আগেই বেশি ছিল। এখন সবজির দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও বাজারে এলে পরিবারের জন্য অন্তত পাঁচ-ছয় রকম সবজি কিনেছি। এখন দুই-তিন রকম কিনেই চলে যেতে হচ্ছে। আবার ভালো মানের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না।”
কাজীর দেউড়ি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুল কাদের বলেন, “কয়েক দিন আগেও যে সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটির দাম ১০০ টাকার বেশি। ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ বাজার করতাম, এখন তা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার কমে হচ্ছে না।”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ মানের কাঁচা মরিচের দাম খুচরা বাজারে পৌঁছেছে ২৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া বেগুন ১২০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
চকবাজার খালপাড়ের সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, “আড়তে গিয়ে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যায়, সেটাও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করতে পারি না। তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দাম রাখতে হচ্ছে।”
বিক্রেতাদের ভাষ্য, বন্যায় দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাট এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার নুরুল ইসলাম বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আজ আড়তে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। বাকি সব সবজির দামও বাড়তি। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে আশা করা যায়, সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে দামের কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।”
