নিজের ইচ্ছায় বা জোর করে—যেভাবেই সেখানে গেছেন, এখন সেখানেই থাকতে চান বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের নববধূ তামান্না আক্তার।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের একদিন পর ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তামান্না আক্তার। সোমবার রাতে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, যেভাবেই তিনি সেখানে গিয়ে থাকেন না কেন, এখন আর ফিরে যেতে চান না। তিনি যেখানে গেছেন, সেখানেই থাকবেন বলেও জানান।
ভিডিও বার্তায় তামান্না আক্তারকে দুই পাশে ছয়জন নারী এবং সামনে একজন পুরুষের উপস্থিতিতে কথা বলতে দেখা যায়। একটি কক্ষের দরজার পাশেও অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে তামান্না বলেন, তিনি জোর করে কিংবা নিজের ইচ্ছায়—যেভাবেই সেখানে গিয়ে থাকুন না কেন, এখন আর ফিরে যেতে চান না। ফিরে গেলেও তার এবং তার বাবা-মায়ের মান-সম্মান ফিরে আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই তিনি সেখানেই থাকবেন বলে জানান।
এর আগে রোববার বিকেলে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলকর্মী আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন বর ও বরযাত্রীরা।
পথে জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে আতিকুর রহমান মিয়াদ ছিলেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঘটনার পর নববধূর একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তামান্নার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তাকে কী পরিস্থিতিতে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
