বাংলাদেশের রাস্তায় বর্তমানে বিওয়াইডির দেড় হাজারের বেশি গাড়ি চলছে। বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিক্রয় ও সেবার নেটওয়ার্ক, চার্জিং অবকাঠামো এবং বিক্রয়োত্তর সেবা জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরই অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিওয়াইডির ফ্ল্যাগশিপ শোরুম থেকে ‘বিওয়াইডি মিডিয়া ড্রাইভ’ নামে একটি টেস্ট ড্রাইভের আয়োজন করা হয়। আয়োজনটি গাজীপুরের একটি রিসোর্টে গিয়ে শেষ হয়। এতে সাংবাদিক, কনটেন্ট নির্মাতা ও অটোমোবাইল খাতসংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
মিডিয়া ড্রাইভে অংশগ্রহণকারীরা রাজধানীর সংকীর্ণ সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং গাজীপুরের আঞ্চলিক সড়কে বিওয়াইডির বিভিন্ন মডেল চালানোর সুযোগ পান। এ সময় গাড়িগুলোর ত্বরণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং, শব্দ ও কম্পন নিয়ন্ত্রণ, আরাম এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুবিধা সরাসরি যাচাই করেন তাঁরা।
ড্রাইভ শেষে বিওয়াইডির প্রডাক্ট স্পেশালিস্ট রেজওয়ান রহমান গাড়িগুলোর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বাজারে যুক্ত হওয়া চারটি নতুন মডেলসহ বিওয়াইডির পোর্টফোলিও, ব্যাটারি, চার্জিং, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়।
বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) ইমতিয়াজ নওশের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাস্তায় প্রতিষ্ঠানটির দেড় হাজারের বেশি গাড়ি চলছে। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন।
তিনি জানান, গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো তৈরি, আসল খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ এবং কারিগরি বিক্রয়োত্তর সেবা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিওয়াইডি।
বাংলাদেশে বিওয়াইডির কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি বাজারজাত করছে। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মডেলের পাশাপাশি ‘ডিএম-আই সুপার প্লাগ-ইন হাইব্রিড’ প্রযুক্তির গাড়িও বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিওয়াইডির আলোচিত প্রযুক্তিগুলোর একটি ‘ব্লেড ব্যাটারি’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির তুলনায় এ প্রযুক্তি বেশি নিরাপদ ও অগ্নিনিরোধী। ব্যাটারির নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নেইল পেনিট্রেশন পরীক্ষার কথাও তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ পরীক্ষায় তীক্ষ্ণ পেরেক দিয়ে ব্যাটারি ছিদ্র করার পরও আগুন বা ধোঁয়া সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি প্রদর্শন করা হয়েছে।
বিওয়াইডির হিসাবে, প্রচলিত জ্বালানি গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ১৪ টাকা বা তার বেশি খরচ হলেও তাদের কিছু ইভি মডেলে এ ব্যয় প্রায় ২ টাকা ৫০ পয়সা। মডেলভেদে একবার পূর্ণ চার্জে ৩৪৫ থেকে ৪২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে গাড়িগুলো।
বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন দামের মডেল রয়েছে বিওয়াইডির। সিল ৫-এর দাম ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সিলায়ন ৫-এর দাম ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সিলায়ন ৬-এর ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ সংস্করণের দাম ৬১ লাখ ৯০ হাজার এবং অল-হুইল ড্রাইভ সংস্করণের দাম ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক অ্যাটো ৩-এর দাম সংস্করণভেদে ৪৬ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রিমিয়াম ইভি সেডান সিলের দাম শুরু হয়েছে ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা থেকে। এর বর্ধিত প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৮৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অল-হুইল ড্রাইভ পারফরম্যান্স সংস্করণের দাম ৯৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ সংস্করণটি একবার পূর্ণ চার্জে ৫৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি দিচ্ছে বিওয়াইডি। ট্র্যাকশন ব্যাটারিতে আট বছর বা ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার এবং মোটর ও মোটর কন্ট্রোলারে আট বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি রয়েছে।
এ ছাড়া পুরো গাড়ির প্রস্তুতকারক ওয়ারেন্টি হিসেবে ছয় বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটারের সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে।
দেশে চার্জিং অবকাঠামো বাড়াতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গাড়ির সঙ্গে হোম ও পোর্টেবল চার্জার দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে মাদানী এভিনিউ, পল্টন, উত্তরা ও তেজগাঁও লিংক রোডে বিওয়াইডির ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। চট্টগ্রাম ও বগুড়াতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের বাজারে সিলায়ন ৬ মডেলটি উল্লেখযোগ্য বিক্রয় সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিওয়াইডি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গাড়ি অ্যাসেম্বল করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বলি শুরু হলে গাড়ির দাম আরো প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আয়োজকদের মতে, বিওয়াইডি মিডিয়া ড্রাইভে নতুন গাড়ি প্রদর্শনের পাশাপাশি সেগুলো সরাসরি চালানোর অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির পারফরম্যান্স, আরাম, নিরাপত্তা, চার্জিং সুবিধা ও পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ ছিল এ আয়োজনে।
