বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও আলোচনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—নিয়োগপ্রক্রিয়া কি আবার আগের ব্যবস্থার দিকে ফিরছে? কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা ইতিমধ্যে পরিচালনা কমিটির হাতে ফিরেছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্বও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছ থেকে পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়ার আলোচনা চলছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দূর করা দরকার। কিন্তু পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে গেলে স্থানীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও আর্থিক অনিয়মের সুযোগ বাড়তে পারে। তাই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে বাতিল না করে এর দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করাই যুক্তিযুক্ত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ আগস্টের একটি সভাকে কেন্দ্র করে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সভায় এনটিআরসিএকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের দায়িত্বে রেখে নিয়োগের জন্য সুপারিশ না করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ১০ আগস্ট রাতে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে ঢাকার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি অসম্পূর্ণ খসড়া ফেসবুক ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর আন্দোলন শুরু হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে উল্লেখ করেন।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য পদে নিয়োগের ক্ষমতা সম্প্রতি আবার পরিচালনা কমিটির কাছে ফিরেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসব পদে নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছিল। ওই ব্যবস্থায় পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট কমিটির। পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্যকে সেখানে রাখার সুযোগ ছিল না।
তবে গত ২১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্র বাতিল করে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারির নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ পুনর্বহাল করে। এর ফলে ট্রেড সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণা বা ল্যাব সহকারী, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, নৈশপ্রহরী ও আয়াসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের দায়িত্ব আবার পরিচালনা কমিটির হাতে চলে যায়।
অতীতে এসব পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল। ফলে নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাতে ফেরার পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষা নেওয়া ও প্রার্থী সুপারিশের দায়িত্ব এনটিআরসিএর। অন্যদিকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এত দিন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে এসেছে। এসব নিয়োগেও অতীতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এসব পদে নিয়োগে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অর্থ দেওয়ার অভিযোগও গবেষণায় উঠে আসে।
এসব অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগেও এনটিআরসিএকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৮ এপ্রিল এ দুই ধরনের পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৫৩ হাজার ৬৯ জন। ২২ এপ্রিল প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৯৪২ জন।
কিন্তু লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রায় চার মাস পরও উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা হয়নি। এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং এর প্রস্তুতি চলছে।
এবারই প্রথম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন ব্যবস্থাতেও ধীরগতির প্রশ্ন উঠেছে।
ময়মনসিংহের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান শিক্ষক বলেন, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ শেষ করার কথা থাকলেও কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে। একই সময়ে কর্মচারী নিয়োগে পুরোনো ব্যবস্থা ফিরেছে এবং শিক্ষক নিয়োগ কমিটির হাতে ফেরানোর আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, প্রধান ও সহকারী প্রধানসহ শিক্ষক নিয়োগ আবার পরিচালনা কমিটির হাতে ফিরলে সেটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
দেশে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে তহবিল সংগ্রহ, আংশিক নিয়োগ, বরখাস্ত, অপসারণ, নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদনসহ পরিচালনার নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিচালনা কমিটির হাতে।
উন্নয়ন ও বার্ষিক বাজেট অনুমোদন, সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন তহবিল পরিচালনা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করাসহ প্রশাসনিক কাজের বড় অংশও এই কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নের চেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে—এমন বিষয়েই পরিচালনা কমিটির আগ্রহ বেশি থাকে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ‘গভর্নিং বডি’ ও ‘ম্যানেজিং কমিটি’সংক্রান্ত প্রবিধান রয়েছে। কলেজ পর্যায়ে পরিচালনা কমিটিকে গভর্নিং বডি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি বলা হয়।
২০০৯ সালের আগের বিধিতে সংসদ সদস্যদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ২০০৯ সালের বিধিতে একজন সংসদ সদস্যকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার সর্বোচ্চ চারটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
পরে অনিয়মের অভিযোগের পর ২০১৬ সালে উচ্চ আদালত ওই বিধির কিছু অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ইচ্ছামতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে পারেননি। ২০২০ সালে আরেকটি রায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর পরিচালনা কমিটিতেও সংসদ সদস্যদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়।
তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ সদস্যদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে চেষ্টা করছেন—এমন আলোচনা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির বড় ক্ষমতা থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এটি একটি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন এর অন্যতম দায়িত্ব। এ উদ্দেশ্যে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা-২০০৬’ করা হয়, যা পরে ২০১২ ও ২০১৫ সালে সংশোধিত হয়।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী সুপারিশের দায়িত্ব এনটিআরসিএকে দেওয়া হয়।
এরপর প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের চাহিদা অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে অনলাইনে প্রার্থী বাছাই করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করছে এনটিআরসিএ। প্রথম প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর।
একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান শিক্ষক বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। তাঁর বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক এভাবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং আবেদন ফি ছাড়া তাঁদের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। তাঁদের মধ্যে দুজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। তাঁর মতে, এই নিয়োগব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব পড়াশোনাতেও দেখা যাচ্ছে।
অর্থাৎ এনটিআরসিএর মূল লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নির্বাচন এবং ব্যক্তিগত বা স্থানীয় প্রভাবের সুযোগ কমানো।
এনটিআরসিএর বর্তমান নিয়োগব্যবস্থায় যে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করাই বেশি যৌক্তিক বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শূন্য পদের তথ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ, সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করা এবং নিয়োগ সুপারিশের প্রক্রিয়া দ্রুত করার মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রতা কমানো সম্ভব।
মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার লক্ষ্যই হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রভাব কমিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক বেছে নেওয়া। এই ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করার পরিবর্তে পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে গেলে আগের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ পুনরায় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে এর কাঠামোগত সংস্কার করা যেতে পারে; কিন্তু সংস্কারের নামে পেছনের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে ভাবার কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, একসময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেত না। তখন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হতো। এখন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগ সরকারের কাছ থেকে পান এবং কিছু ভাতাও পান। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় পরিচালনা কমিটির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা কমিটি ছাড়াই তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির প্রয়োজন আছে কি না, তা বিবেচনা করা উচিত।
তাঁর মতে, আপাতত পরিচালনা কমিটি থাকলেও এর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারক করা। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের দায়িত্ব কমিটির হাতে থাকা উচিত নয়, কারণ এতে নিয়োগ-বাণিজ্যের ঝুঁকি থাকে।
তিনি শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে এনটিআরসিএকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পৃথক শিক্ষা সার্ভিস কমিশন গঠনের বিষয়েও ভাবার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
সব মিলিয়ে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। তবে সমাধান পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ায় নয়; বরং মেধাভিত্তিক নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
