ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য ধারণে রাতভর পরিশ্রম, অভিনয় জীবনের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা বলে মন্তব্য অভিনেত্রীর
মুম্বাই: জনপ্রিয় অ্যাকশন-থ্রিলার সিরিজ ‘মর্দানি’র তৃতীয় কিস্তি ‘মর্দানি-৩’ নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। তবে ছবিটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য ধারণের সময় টানা ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
রানি মুখার্জি জানান, প্রতিটি চলচ্চিত্রের কাজের মধ্যেই ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে তার জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর একটি হলো রাতের শুটিং। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভোরে ঘুম থেকে ওঠা এবং রাতে দ্রুত বিশ্রামে যাওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত। ফলে রাতভর কাজের সূচির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সবসময়ই তার কাছে কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় ঘুমাতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ কারণে রাতের শুটিং চলাকালে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দ পুরোপুরি বদলে ফেলতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন কর্মসূচি শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি করে।
তবে রাতের শুটিংয়ের একটি ভিন্ন সৌন্দর্যের কথাও উল্লেখ করেছেন রানি। তার মতে, গভীর রাতে যখন শহরের ব্যস্ততা স্তিমিত হয়ে আসে এবং অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন শুটিং সেটে এক বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। সেই নীরবতা ও মনোযোগের আবহ অনেক সময় অভিনয়ে অতিরিক্ত গভীরতা যোগ করতে সহায়তা করে।
‘মর্দানি-৩’-এর ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুটিং শুরু হয়েছিল বিকেল ৩টায় এবং শেষ হয় পরদিন সকাল ১০টায়। অর্থাৎ প্রায় ১৮ ঘণ্টা একটানা ক্যামেরার সামনে থাকতে হয়েছে তাকে। দৃশ্যটি ছিল শারীরিকভাবে অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং আবেগঘন, যেখানে শক্তি, মনোযোগ ও তীব্র অভিনয় দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন ছিল।
রানির মতে, দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার পর এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন, যখন মনে হয়েছিল তার ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তবে একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে তিনি সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন।
যশরাজ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ‘মর্দানি’ সিরিজের প্রথম দুটি চলচ্চিত্র দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল। নারী পুলিশ কর্মকর্তার সাহসিকতা, অপরাধবিরোধী লড়াই এবং সামাজিক বার্তা তুলে ধরার কারণে সিরিজটি বলিউডে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।
সেই ধারাবাহিকতায় ‘মর্দানি-৩’ নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা বেশ উঁচুতে। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগের দুটি কিস্তির মতো নতুন ছবিটিও অ্যাকশন, আবেগ ও সামাজিক বার্তার সমন্বয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করবে।
রানি মুখার্জি বিশ্বাস করেন, ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের জন্য যে পরিশ্রম ও নিবেদন তিনি দিয়েছেন, তা পর্দায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। দর্শকরা ছবিটি দেখার সময় সেই শ্রম ও আবেগ অনুভব করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্র মুক্তির আগে রানির এই অভিজ্ঞতা ‘মর্দানি-৩’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
