বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ৩ হাজার ২৬৬ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। নতুন এই মূল্যতালিকা কার্যকর হওয়ার পর বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) দেশের বাজারে ওই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গতকাল দুপুর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্যহার অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায়।
এর আগে ৩ জুলাই স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনা হয়েছিল। সে সময় প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায় উন্নীত করা হয়। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচামালের দামের পরিবর্তন দেশের স্বর্ণবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে স্বর্ণের মূল্য প্রায়ই পুনর্নির্ধারণ করতে হয়।
স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় চলতি বছরের মূল্য সমন্বয়ের পরিসংখ্যান থেকে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৭ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৪৩ বার কমানো হয়েছে। এছাড়া একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে।
মূল্য হ্রাসের ফলে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনায় থাকা ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ব্যবসায়ীরা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটার সময় মূল্য পরিবর্তন বাজারের চাহিদা ও বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকে এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য আর না বাড়ে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারে আরও স্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে।
দেশের স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও বাজার এখনো অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উভয় বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনের মূল্য প্রবণতা নির্ধারিত হবে। ফলে স্বর্ণে বিনিয়োগ বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
