দলগত অপরাধ প্রমাণিত হলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিচার ও নিষিদ্ধকরণের পথ খোলা থাকতে পারে
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তাধীন বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তে দলগত সম্পৃক্ততার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়াও বিবেচনায় আসতে পারে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চিফ প্রসিকিউটর এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে কোনো ব্যক্তি ছাড়াও একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে দলগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা ছিল, তাহলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসারে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয়ের দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত সম্পন্ন হলে আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো অভিযোগে ব্যক্তিগত দায়ের পাশাপাশি দলগত অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের ভূমিকাও আইনি মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে।
এদিকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। শনিবার অনুষ্ঠিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং দলটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেও বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে তদন্ত, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আদালতের রায়ই হবে মূল নির্ধারক।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এবং সম্ভাব্য বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি আইনের শাসন, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
তারা মনে করেন, এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রমাণভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন, যাতে বিচারিক সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান এবং কোনো সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নেওয়া হচ্ছে না। তবে তদন্তে মানবতাবিরোধী অপরাধে দলগত সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলটির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। ফলে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
