সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, দুর্ভোগে অফিসগামী মানুষ
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিপাত নগরজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, যানজট ও গণপরিবহনের সংকটে কর্মজীবী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তর ঢাকাসহ দেশের ১৪টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সকালের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়। অনেক এলাকায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। ফলে অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
রাজধানীর এক গণমাধ্যমকর্মী রোকসানা নূর জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেককেই হেঁটে প্রধান সড়কে এসে যানবাহন ধরতে হয়েছে।
বৃষ্টির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র আয়ের পরিবহনকর্মীদের ওপরও। ভাড়াভিত্তিক মোটরসাইকেলচালক শরিফ আহমেদ বলেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দৈনিক কিস্তি ও পারিবারিক ব্যয় মেটানো নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া নগর অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
টানা বৃষ্টির কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধীরগতি এবং নিম্নআয়ের মানুষের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকায় রাজধানীবাসীকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
