আদালতের অনুমতিতে সময় পেলেন কয়েক আসামি, বিচারিক কার্যক্রমে নতুন তারিখ নির্ধারণ
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় কয়েকজন আসামির আইনজীবী অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, কয়েকজন আসামিপক্ষ আরও প্রস্তুতির জন্য সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং অভিযোগ গঠনের শুনানি মুলতবি করেন।
আদালতের বেঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে মামলাটি বিভিন্ন আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। প্রথমে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে এটি দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। পরে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, একটি অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে কথিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত বৈঠকের অডিও ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রের উপাদান পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করে।
মামলাটি প্রথমে সীমিত সংখ্যক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করে দায়ের করা হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আসামির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পাশাপাশি মামলার বিচারিক কার্যক্রমের স্বার্থে কয়েকটি নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন পরিচিত নেতার নামও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে মামলার পরবর্তী বিচারিক অগ্রগতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠনের পর্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বে প্রবেশ করবে এবং সাক্ষ্যগ্রহণসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আপাতত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়েছে। ওই দিন আদালত অভিযোগ গঠন করবেন কি না, নাকি আসামিপক্ষের আবেদনের বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত দেবেন—সেদিকে এখন নজর থাকবে আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলের।
