সরকার জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি গণভোটের বিষয়েও সরকারের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণের’ অভিযোগ তোলেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা দেশের জাতীয় সম্পদ। তাদের নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, এখনো অনেক আহত আন্দোলনকারী বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অনেকে দেশে শয্যাশায়ী অবস্থায় কষ্ট পাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার আহত ও শহীদ পরিবারের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তার ভাষায়, সরকার যদি স্বৈরাচারী আচরণ থেকে সরে না আসে, তাহলে দেশে আবারও ‘আরেকটি জুলাই’ তৈরি হতে পারে।
জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলনের কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না। দিনমজুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন এবং সবাই এ আন্দোলনের অংশীদার।
শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে অনেক আশার কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। এসব প্রতিশ্রুতি কোথায় হারিয়ে গেল, তার জবাব সরকারকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ ইস্যুতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জাতির সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা করছে এবং সংসদেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের রায়কে সম্মান করে এবং কথিত ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে সরে আসে, তাহলে জনগণ ইতিবাচকভাবে তা গ্রহণ করবে। অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষ কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
