টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনায় এক পর্যটকসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসের কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ের একটি অংশ ধসে সড়কের ওপর পড়ে। এ সময় সেখানে চলাচলরত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর মাটির অংশ এসে পড়লে এতে থাকা ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক ছিলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের মধ্যে পর্যটকসহ তিনজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা খননযন্ত্র ব্যবহার করে সড়কে জমে থাকা মাটি ও গাছপালা অপসারণের কাজ শুরু করেন। পরে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দুর্ঘটনার সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে, যার বেশির ভাগ যাত্রী ছিলেন পর্যটক।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও দরিয়ানগরের বাসিন্দা মমতাজ আলম জানান, পাহাড়ধসের সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হিমছড়ির দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই ধসে পড়া মাটির একটি অংশ অটোরিকশাটির ওপর এসে পড়ে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দৈর্ঘ্য ৮৪ কিলোমিটার। সড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগর। মঙ্গলবার বিকেল থেকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
