কৃষি উৎপাদনে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর অগ্রগতি দেখতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান। পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন, জামালপুর ও আশপাশের এলাকায় ইউরিয়াসহ কোনো ধরনের সারের ঘাটতি নেই।
গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানা এবং জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকার সার ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান। দিনব্যাপী পরিদর্শনে কারখানার যন্ত্রপাতির অবস্থা, পুনরায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ে সার বিতরণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
কারখানা পরিদর্শনের সময় মূল উৎপাদন ইউনিট, অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া প্ল্যান্ট, নিয়ন্ত্রণকক্ষ, প্যাকেজিং বিভাগ এবং গুদাম ঘুরে দেখেন ড. মো. মাহমুদুর রহমান। যন্ত্রপাতির কারিগরি অবস্থা ও সংস্কারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকৌশলীদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।
প্রযুক্তিগত জটিলতা ও গ্যাস সরবরাহের সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান। প্রকৌশলী ও পুনঃচালুকরণ দলের সঙ্গে আলোচনায় কারখানাটি কবে নাগাদ পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।
এ ছাড়া কারখানায় মজুত সার, বস্তাজাতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সার পরিবহনের ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন তিনি। পরে কারখানার প্রশাসনিক ভবনে জেএফসিএল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, যমুনা ফার্টিলাইজার দেশের কৃষিখাতের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের বড় একটি অংশ এ কারখানার ওপর নির্ভরশীল। তাই কারখানাটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক বা কারিগরি বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে উৎপাদনে ফেরার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে গুদামে থাকা সারের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং বিতরণ কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
পরে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান। সেখানে বিসিআইসির নিবন্ধিত সার ডিলার মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স চানমিয়া ট্রেডার্সের গুদাম, বিক্রয়কেন্দ্র এবং বিপণন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের সময় ডিলারদের মেমো বই, সার গ্রহণের চালান, রেজিস্টার, বিক্রয় রেকর্ড এবং কৃষকদের দেওয়া সরকারি মূল্যের রসিদ যাচাই করা হয়। গুদামে থাকা সারের পরিমাণ সরেজমিনে গণনা করে সরকারি রেজিস্টারে থাকা হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
কৃষকদের কাছে সার বিক্রিতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও ডিলারদের কাছে জানতে চান বিসিআইসি চেয়ারম্যান। সরকারি মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা এবং নিয়ম অনুযায়ী কৃষকপ্রতি সার বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে ড. মো. মাহমুদুর রহমান জানান, জামালপুর ও আশপাশের এলাকায় ইউরিয়াসহ কোনো ধরনের সারের সংকট নেই। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে ডিলার ও কেন্দ্রীয় গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার বিষয়টি দেখা গেছে। চাহিদা অনুযায়ী আগামী দিনগুলোর প্রয়োজনীয় সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এ এলাকায় সারের সংকট তৈরির কোনো কারণ নেই।
কৃষক পর্যায়ে সার পৌঁছাতে অনিয়ম, কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান বিসিআইসি চেয়ারম্যান।
আসন্ন চাষাবাদ মৌসুমে কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছাতে কারখানা থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
