সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো বা হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত জারি করা রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামিন পাওয়ার পর এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এজাহারে ছিল না, হেফাজতে ও কারাগারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং তাঁদের পক্ষে পৃথক রিট আবেদন করা হয়। ওই রিটগুলোর শুনানি শেষে গত মাসে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, শুধু হয়রানি বা অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে কাউকে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখানো এবং তাঁকে হয়রানি না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টের ওই পৃথক আদেশগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল এবং স্থগিতাদেশের আবেদন করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ স্থগিত করেন এবং লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা।
রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায় তদন্ত চলাকালে কোনো ব্যক্তির নাম এজাহারে না থাকলেও, তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান, তাহলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
