দেশে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, পুরোনো বাসের পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপিং নীতি প্রণয়ন এবং রাজধানীর বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাসসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি গণপরিবহনের গুণগত পরিবর্তনেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপদ, সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব এবং সবার জন্য সহজলভ্য একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো বাস অপসারণে পরিবেশবান্ধব স্ক্র্যাপিং নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। রাজধানীর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেল, মনোরেল, ইলেকট্রিক বাস এবং আধুনিক সিটি বাসকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এতে যাত্রীরা সহজেই একটি পরিবহন থেকে অন্যটিতে স্থানান্তর হতে পারবেন। ফলে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমবে, গণপরিবহনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহারও হ্রাস পাবে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বায়ু ও শব্দদূষণ হ্রাস পাবে। এতে নগরবাসী আরও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে এ খাতে আরোপিত প্রায় ৬২ শতাংশ কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এসব যানবাহন ক্রয়ও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সারাদেশে প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
পুরোনো বাস ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব বাসের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হবে এবং নিরাপদ চলাচলের উপযোগিতা হারাবে, সেগুলো আর ডাম্পিং করা হবে না। পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে লোহা, ইস্পাতসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ শিল্পকারখানায় কাজে লাগানো হবে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে একই টার্মিনাল থেকে সিটি ও আন্তঃজেলা বাস পরিচালিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার ভেতরের বাসস্ট্যান্ডগুলো সিটি বাসের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস রাজধানীর চারপাশে নির্মিত আধুনিক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে।
তার ভাষ্য, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে ভারী বাসের চলাচল কমবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত আরও সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া ঢাকা শহরকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। সরকারের চলমান পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় আধুনিক, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
