সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ; কূটনৈতিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময়
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সহযোগিতামূলক বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পাঠানো একটি চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ।
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও শ্রমবাজার অংশীদার দেশ সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এ ছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, ধর্মীয় পর্যটন এবং শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
অন্যদিকে, উড়িষ্যা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গভীর সাগর ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, নদী ও সমুদ্রে উত্তাল পরিস্থিতি এবং নৌযান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে মৎস্যজীবী ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একদিকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের মাধ্যমে, অন্যদিকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিম্নচাপজনিত আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কূটনৈতিক ও প্রাকৃতিক—উভয় ক্ষেত্রেই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হয়ে থাকল।
