তেহরানে হিজবুল্লাহ নেতার সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মন্তব্য
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইরানের ভূমিকাকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলে বিশেষ করে লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মুহাম্মদ ফনাইশের সঙ্গে এক বৈঠকে গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। ফনাইশ সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান সফরে গিয়েছিলেন।
বৈঠকে ইরানি স্পিকার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান অংশীদার। তাঁর দাবি, লেবাননের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ইরানের কূটনৈতিক ও কৌশলগত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ইরান দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
ইরানি পার্লামেন্ট প্রধান আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা ও কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও লেবানন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি বলেন, তেহরান আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে লেবাননের পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে।তবে এ বিষয়ে আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ছে লেবাননসহ আশপাশের দেশগুলোতেও।
বিশেষ করে লেবাননের রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানি নেতৃত্বের বক্তব্য অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননকে কেন্দ্র করে ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ইরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কও এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে নতুনভাবে মূল্যায়িত হতে পারে।
লেবাননের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকারের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক আলোচনা এবং শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নে ইরান নিজেকে একটি অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে—গালিবাফের বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।
