সাত বছর পর বড় সংস্কার, জামায়াতের গঠনতন্ত্রে আসছে ১৪ সংশোধনী
আর্থিক স্বচ্ছতা, উপদেষ্টা পরিষদ ও সাংগঠনিক আধুনিকায়নে নতুন উদ্যোগ
দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় গঠনতন্ত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে দলটি প্রায় ১৪টি সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বৃদ্ধি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ধারা পুনর্বিন্যাস।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করতে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দলটির নেতৃত্ব।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের আমিরদের আর্থিক ব্যয়ের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দলীয় অর্থের উৎস, ব্যয় ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন, এসব পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়বে এবং প্রশাসনিক দক্ষতাও উন্নত হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে দলীয় শুরা পরিষদে আলোচনা হয়েছে। সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে সংশোধনী কমিটি, পরে নির্বাহী পরিষদ এবং সর্বশেষ শুরা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র সংশোধনের ২৩তম প্রস্তাবনা শুরা সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ পরিষদে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যারা দলের সদস্য না হলেও শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, সমাজসেবা কিংবা বিভিন্ন জাতীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
দলীয় নেতৃত্বের ধারণা, অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পরবর্তী শুরা বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কাঠামো পুনর্বিন্যাসে আগ্রহী হচ্ছে। জামায়াতের এই উদ্যোগকে সেই ধারার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো এবং উপদেষ্টা পরিষদের মতো নতুন ব্যবস্থা দলটির সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
গঠনতন্ত্রে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো অনুমোদিত হলে দলীয় প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বিশেষ করে আর্থিক জবাবদিহি ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে প্রস্তাবিত ১৪টি সংশোধনী শুধু সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে দলটির প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
:::
