: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৫ রান। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করে ২১০ রান।
এই হারে দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ ড্র করার সুযোগ তৈরি হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়েছে।
শনিবার শুরু হওয়া ম্যাচটি শেষ হয় রোববার চা বিরতির পর। ফলে ম্যাকাইয়ের দর্শকদের নিজেদের দলের অভিষেক টেস্ট দেখতে কর্মদিবসের কোনো সময় নষ্ট করতে হয়নি—সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনেই ম্যাচের ফল পেয়ে গেছে তারা।
ম্যাকাইয়ের উইকেট শুরু থেকেই পেসারদের জন্য সহায়ক ছিল। প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্কের বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
জবাবে অস্ট্রেলিয়াও স্বস্তিতে ছিল না। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের বোলিংয়ে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান ছিল স্বাগতিকদের। পরে দ্বিতীয় দিনের সকালে আরও ৪৫ রান যোগ করে ২১০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরীফুল ইসলাম। তিনি ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন। এটি টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের সেরা বোলিং। এর আগে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন শাহাদাত হোসেন।
দ্বিতীয় দিনের সকালে ইনসুইং ইয়র্কারে এলবিডব্লু করে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে নিজের সপ্তম উইকেটটি নেন শরীফুল।
অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো করেছিলেন তানজিদ হাসান। মিচেল স্টার্কের করা প্রথম বলেই স্ট্রেট ড্রাইভে চার মারেন তিনি। কিন্তু এরপর দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
২৪ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারানোর পর ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যায়। স্টার্কের বলে সাদমান ইসলাম ও লিটন দাস আউট হন। মুমিনুল হক অফ স্টাম্পের ওপরের বল ছেড়ে বোল্ড হন।
পরে তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও অন্য ব্যাটসম্যানরাও টিকতে পারেননি। নাজমুল ৩১ এবং মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ২৯ রান করেন।
দুই ইনিংসেই এক শর কম রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে কোনো দলের দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০০৫ সালের আগস্টে, যখন হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ৫৯ ও ৯৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল।
আর মাত্র দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার ঘটনা এটি ২৮তম। সর্বশেষ গত বছরের অ্যাশেজে পার্থ ও মেলবোর্নের দুটি টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়েছিল।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯৫ রানে অলআউট হওয়ার পর ম্যাচ শেষ হয়। নাথান লায়নের করা দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারের প্রথম বলে তাসকিন আহমেদ এবং তৃতীয় বলে শরীফুল ইসলাম আউট হলে খেলা শেষ হয়ে যায়। তখনো দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনের বেশির ভাগ সময় বাকি ছিল।
স্কোর: বাংলাদেশ ৬৪ ও ৯৫; অস্ট্রেলিয়া ২১০।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ সমতা।
