দীর্ঘদিনের নদীপথনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে সড়কপথে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দ্বীপজেলা ভোলার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার পর ভোলার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে ঘোষণাটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভোলা প্রাকৃতিক গ্যাস ও কৃষিতে সমৃদ্ধ হলেও জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। ফলে উন্নত চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পেতে জেলার মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাত নামার পর দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ‘বরিশালের রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। এতে দীর্ঘদিনের সড়ক যোগাযোগের দাবি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত ভোলা দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা। কৃষিপণ্য ও ইলিশ উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এ জেলা। স্বাধীনতার পর থেকেই ভোলা-বরিশাল সড়ক যোগাযোগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বাসিন্দারা।
ভোলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত মহাসড়ক নির্মাণে নতুন করে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে হবে। রহমতপুর থেকে মেহেন্দীগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া নদী পারাপারের জন্য ইলিশা চ্যানেলে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মাঝকাজি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতুসহ মোট তিনটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবিত এই সড়ক যোগাযোগ চালু হলে ভোলা থেকে শরীয়তপুর হয়ে ঘোষের হাট দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমতে পারে। বর্তমানে লাহারহাট হয়ে বরিশালের দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। নতুন রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ভোলা ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জকে মহাসড়কের আওতায় আনার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আনন্দের। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত ভোলার মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিও দীর্ঘদিনের। তাঁর মতে, ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজ আগে করা হলে সেটিও জেলার জন্য বড় সুফল বয়ে আনবে।
ভোলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, দ্বীপ জেলা হওয়ায় ভোলা জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন। ভোলাকে মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলার মাধ্যমে বরিশালের সঙ্গে যুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত বিস্তারিত জরিপসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
