জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে ইশরাত জাহান মিমি (৩২) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কাউসার আহমেদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির দাবি, প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে মিমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন কাউসার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে শেরপুরের শাওন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মিমির বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে শাওনের মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরের নয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন বাবুল মিয়ার ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন মিমি।
প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে তাঁদের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনই মাদকাসক্ত ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, তাঁদের সম্পর্কের একটি ভিডিও ধারণ করে মিমি কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। পরে আরও টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
গত ২২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে মিমি কাউসারকে তাঁর বাসায় ডেকে নেন। সেখানে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এরপর ধস্তাধস্তির মধ্যে কাউসার মিমির গলা চেপে ধরলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পিবিআই দাবি করেছে।
পরে কাউসার বাইরে থেকে বাসার দরজা বন্ধ করে চলে যান। পরদিন ওই বাসা থেকে মিমির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মিমির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে কাউসার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে এবং সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
