কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ঘেঁষে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৮ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক। প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কটি বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার পৌরসভা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সড়কটি চালু হলে কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি যানজট কমবে, পর্যটক আকর্ষণ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। একই সঙ্গে সড়কটি শহর রক্ষাবাঁধ হিসেবেও ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নির্মাণাধীন সড়কটি পরিদর্শন করেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এ সময় তিনি সড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি, নকশা, পরিবেশগত বিষয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, জাইকার অর্থায়নে নির্মিতব্য সড়কটি দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এটি নির্মিত হলে কক্সবাজারের সৌন্দর্য ও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, সড়কটি শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, শহর রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমুদ্র ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সড়কটি চালু হলে শহরের যানজট অনেকটা কমবে বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য। ভবিষ্যতে এটি মেরিন ড্রাইভ সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হলে কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি মনে করেন।
তার ভাষ্য, মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে সড়কটি যুক্ত হলে কক্সবাজার আরও বেশি পরিচিত হয়ে উঠবে এবং পর্যটকেরা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।
পরিবেশগত অনুমোদনের বিষয়ে লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত অনুমতির যে নিয়ম রয়েছে, সেই অনুযায়ী এই প্রকল্পের ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের জন্য পরিবেশগত অনুমোদন রয়েছে।
পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সড়কটি পরিবেশের ক্ষতি করবে না বলেও দাবি করেন তিনি। বরং কক্সবাজারকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এটি ভূমিকা রাখবে বলে তার অভিমত।
তিনি সড়কটির নাম ‘পরিবেশ সড়ক’ রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তার মতে, উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে সমন্বয় রেখেই কক্সবাজারের প্রকৃতি ও পর্যটন রক্ষা করতে হবে।
পরিদর্শনের সময় কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক শামীম আল ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তবে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও কিছু পরিবেশবাদী মহলের আপত্তি রয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এতে উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ পরিবেশের নামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আপত্তি তুলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য সোর্সে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিবেশগত সব বিধিবিধান মেনে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে সড়কটি কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত এলাকার সৌন্দর্য ও শহরের নিরাপত্তা রক্ষাতেও এটি কার্যকর হবে বলে তারা আশা করছেন।
