বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিততে চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করতে হয়েছে তাদের। এই ফল নিয়ে আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউড।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সিডনিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে কথা বলেন হ্যাজলউড। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে ১-১ সমতা তাদের প্রত্যাশিত ফল ছিল না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লুটিসি) পয়েন্টের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের লক্ষ্য ছিল সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জেতা।
হ্যাজলউড বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ১-১ সমতা সম্ভবত আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফল ছিল না। আমরা অবশ্যই ২-০ চেয়েছিলাম। ডব্লুটিসিতেও এই পয়েন্টগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই পয়েন্ট পাওয়া সব সময় আমাদের লক্ষ্য থাকে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন হ্যাজলউড। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ শুরু থেকেই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। টানা চার দিন আধিপত্য ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারায় স্বাগতিকরা।
প্রথম টেস্টের ফল নিয়ে হ্যাজলউড স্বীকার করেন, বাংলাদেশের শুরুটা তাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ ডারউইনে শুরু থেকেই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এতে আমরা একটু চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ম্যাচে ঢুকতে আমাদের একটু বেশি সময় লেগেছে।’
তবে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় প্যাট কামিন্সের দল। সেই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পেরেছে বলে মনে করেন হ্যাজলউড।
তিনি বলেন, ‘তবে ম্যাকাইতে আমরা কী করতে পারি, সেটি দেখিয়েছি।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে একটি টেস্ট হারলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অস্ট্রেলিয়া এখনো শীর্ষে রয়েছে। ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে তাদের পয়েন্টের হার ৮০ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর গেবেহা ও কেপটাউনে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ডব্লুটিসি চক্রের শেষ দিকে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিও রয়েছে তাদের। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠেয় ওই সিরিজটি টানা তৃতীয়বার ডব্লুটিসির ফাইনালে ওঠার পথে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
