মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে জেনারেল ওসমানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও স্মরণ করা হয়নি।
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী এম এ জি ওসমানী ছাত্রজীবনেই কৃতিত্বের পরিচয় দেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি সাহসিকতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা দেখান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে সংগঠিত হওয়ার আগেই ওসমানী স্বাধীনতা সংগ্রামের সামরিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে তৎকালীন বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধ হন এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি সুসংগঠিত সামরিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যুদ্ধ পরিচালনার প্রয়োজনেও প্রবাসী রাজনৈতিক সরকার গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এম এ জি ওসমানী।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে ওসমানীর সমরকৌশল, নেতৃত্ব এবং যুদ্ধ পরিচালনার দক্ষতার কথাও উঠে আসে। তার দাবি, ওসমানীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কৌশলের অধীনেই মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হন।
স্বাধীনতার পর ওসমানীর রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলে এম এ জি ওসমানী এর বিরোধিতা করেন। এ সময় তিনি সংসদ ও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহানায়ককে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও স্মরণ করা হয়নি। তার মতে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এম এ জি ওসমানীর অবদান অনস্বীকার্য এবং তার নেতৃত্ব ও সাহসিকতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম তার পরকালীন জীবনের শান্তি কামনা করেন।
