বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। এ লক্ষ্যে পোশাক খাতে জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেছে এইচএসবিসি, এআইআই, সুইডিশ দূতাবাস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বুধবার আয়োজিত এ আলোচনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে থাকা পরিবেশগত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের পোশাক খাতে জ্বালানি রূপান্তর দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় বাজার ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন কম-কার্বন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ার সমন্বয় করে টেকসই সোর্সিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জনের সুযোগ বাংলাদেশকে কাজে লাগাতে হবে।
আলোচনার মূল বক্তব্য অধিবেশনে অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিল্হাস আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক খাতে বৈশ্বিকভাবে কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিস্তার শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি পোশাক খাতের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ। নির্ভরযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহজলভ্য হলে কারখানার কার্বন নিঃসরণ ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পরিবেশগত চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
এইচএসবিসি হোল্ডিংস পিএলসির গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটির গ্লোবাল হেড অব ক্লিন পাওয়ার সিস্টেমস র্যানডলফ ব্রেজার এবং এইচএসবিসির এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাসটেইনেবিলিটি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধান জাস্টিন উ বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে মতামত দেন।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জ্বালানি রূপান্তরকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। সহায়ক নীতি, উন্নয়নশীল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি মূলধন আকর্ষণ ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইং প্রধান এ কে এম সোহেল, সুইডিশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওলে লুনদিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সারওয়ার হোসেইন, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি বিদ্যা খান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কিম হেলস্ট্রম এবং এটিটিআইয়ের অলিভিয়া উইন্ডহাম স্টুয়ার্টসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরার মধ্য দিয়ে গোলটেবিল বৈঠকটি শেষ হয়।
