কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে দেশটিতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো অর্থ মানবিক সহায়তায় ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন। গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণে কাতার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, তিনি কাতারে হামলা ও বোমা হামলা চালিয়েছেন এবং যুদ্ধের সময় কাতারও ইসরায়েলকে আক্রমণ করেছে।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। হামলার এক বছর পূর্তির আগে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করলেন।
২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে কাতারে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। দোহায় হামলার পর কাতার ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। ইরান, পাকিস্তান, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরবও এ হামলার নিন্দা করে। জাতিসংঘ কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কথা জানায়।
পরে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, গাজায় কাতারের পাঠানো অর্থের পরিমাণ মোট প্রবেশ করা অর্থের মাত্র ২ শতাংশ। তার ভাষ্য, গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতেই ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল।
তবে ইসরায়েলি সমালোচকদের দাবি, কাতারের অর্থ হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অর্থ সরাসরি গাজার মানুষের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তা বিতরণ করা হয়েছে।
সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদী সমর্থন পেতে নেতানিয়াহু এমন বক্তব্য দিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
