পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পেছনে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ১০ উইকেটের জয়কে দায়ী করেছেন দেশটির সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ। তার মতে, ওই ঐতিহাসিক জয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও অহংকার তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সাত ক্রিকেটার ও প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন ইউসুফ।
সামা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউসুফ বলেন, ২০২১ সালে দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার মতে, ওই জয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয় যে তারা বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছেন।
ইউসুফের ভাষ্য, ভালো খেললেও খেলোয়াড়দের বিনয়ী থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অহংকারপূর্ণ আচরণ ও মনোভাব দলের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, দলের প্রত্যেকে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ পরিস্থিতির প্রভাব গত চার-পাঁচ বছরের পারফরম্যান্সেও দেখা গেছে বলে মনে করেন তিনি।
ইউসুফের মতে, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিলেও দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি।
তার দাবি, এই সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দলের পাশে ছিল। অনেক কোচ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দলকে সহায়তা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নিজ উদ্যোগে যথেষ্ট দায়িত্ব নেওয়া হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
পিসিবি সম্প্রতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিকেও সমর্থন করেছেন ইউসুফ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলি আগা, আলি উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মুহাম্মদ আওয়াইস জাফরকে সফর থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তখনও সিরিজের একটি টেস্ট বাকি ছিল।
এই সাতজনের মধ্যে শেষ দুজন কোনো ম্যাচে অংশ নেননি। তাদের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয় সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকে। এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে দলে জায়গা পান আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাঈদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তান এক ইনিংস ও ১০৩ রানে হারে। এরপর রোববার লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে পরাজিত হয় তারা।
দুই ম্যাচেই পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছে। কোনো ইনিংসেই দলটি ২০০ রান করতে পারেনি। লর্ডসে হার এড়ানোর লড়াইয়ে সৌদ শাকিলের ৯৭ রান ছিল পাকিস্তানের পক্ষে সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছাকাছি ইনিংস।
শেষ টেস্টটি তুলনামূলক গুরুত্বহীন হলেও সফরের মাঝপথে ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার পিসিবির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন ইউসুফ। তার মতে, পাকিস্তান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ক্রিকেটের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই উন্নতির জন্য বোর্ডের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তবে নতুন সাত ক্রিকেটার দলে যোগ দেওয়ার পরই পাকিস্তানের পারফরম্যান্স বদলে যাবে—এমন প্রত্যাশা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ইউসুফ।
তিনি বলেন, সমস্যাটি শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের নয়। ২০২২ সালে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের ফাইনালে খেললেও এরপর দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি।
পাকিস্তান টেস্ট দলের দায়িত্ব বর্তমানে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের হাতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
