অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ওমর নেওয়াজ আলীর জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওমর নেওয়াজকে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ওমর নেওয়াজ আলী আইএএলসি—ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডমিশন অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ওমর নেওয়াজকে আটক করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। পরে তাকে ধানমন্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইএএলসির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একেকজনের কাছ থেকে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রায় ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। তবে অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা না করে আইএএলসির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফয়সাল ও ওমর নেওয়াজ আলী আত্মগোপনে চলে যান। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
আইএএলসির বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম ঢাকার ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কের ফরচুন টাওয়ারে ভাড়া নেওয়া কার্যালয় থেকে পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওমর নেওয়াজ আলীর বিরুদ্ধে ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের নিউ কলোনির বাসিন্দা হলেও বিভিন্ন সময়ে লালমাটিয়া ও বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান করতেন। তাঁর বাবার নাম এম আকরাম আলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওমর নেওয়াজের বিদেশযাত্রার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে ওমর নেওয়াজকে হাজির করার সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা বিক্ষোভ করেন। তাঁরা ওমর নেওয়াজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আত্মসাতের অভিযোগে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের আশায় তাঁদের অনেকে পরিবারের সঞ্চয় খরচ করেছেন। কেউ কেউ সম্পদ বিক্রি করেও আইএএলসিকে অর্থ দিয়েছেন। এখন অর্থ হারিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে ওমর নেওয়াজের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রশ্ন তোলেন। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী জড়িত কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। তবে এ বিষয়ে কোনো তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত আইএএলসির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফয়সালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আত্মসাতের অভিযোগে নেওয়া অর্থ ফেরত পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
