জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইদলিব প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা একটি প্রধান মহাসড়ক কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
সরকার জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ‘বানিয়াস’ শোধনাগারের সংস্কারকাজকেও দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সরকার।
সরকারের দাবি, সংস্কারকাজ শেষ হলে শোধনাগারটির দৈনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হবে। এদিকে হামা, খান শেখুন ও মারাত আল-নুমান শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
আলজাজিরায় প্রকাশিত ফুটেজে বিক্ষোভের সময় রাস্তায় মানুষের জড়ো হওয়া এবং টায়ার পোড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির জানিয়েছেন, দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। বিপরীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল তেলের প্রয়োজন হয়। ফলে ঘাটতি পূরণে সিরিয়াকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করছে দেশটি।
দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের চেষ্টা চালানো সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
